টক্সিক রিলেশনশিপ টেস্ট

টক্সিক রিলেশনশিপ টেস্ট: তোমার সম্পর্কে তুমি কি এখনো নিজের মতো থাকতে পারো?

টক্সিক রিলেশনশিপ টেস্ট শুরু করো

সাইনআপ নেই · যেখানে খুশি শেয়ার করো

ফোনের পাসওয়ার্ড চাওয়া কি ভালোবাসা, নাকি নিয়ন্ত্রণ? বন্ধুদের সাথে দেখা করতে গেলে মুখ ভার হওয়া কি স্বাভাবিক? ভুল না করেও শান্তির জন্য প্রতিদিন সরি বলা কি সব সম্পর্কেই হয়? ভেতরে থেকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া কঠিন, কারণ অভ্যাস হয়ে গেলে আর অদ্ভুত লাগে না। টক্সিক রিলেশনশিপ টেস্ট সম্মান, বিশ্বাস আর নিজের জায়গা নিয়ে ১০টি সরাসরি প্রশ্ন করে।

ফল তিনটি: সুস্থ সম্পর্ক, কিছু সতর্ক সংকেত বা টক্সিক আচরণ। প্রতিটির সাথে একটি ছোট ব্যাখ্যা, আর শেষের দুটিতে একটি বাড়তি লাইন: নিজেকে অনিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত বা ভীত মনে হলে বিশ্বাসের কারও সাথে কথা বলো বা হেল্পলাইনে যোগাযোগ করো।

এটা কোনো রায় নয়, ভাবনার খোরাক। টেস্ট বলবে না কাকে ছাড়তে হবে; শুধু সেই ছবিটা দেখাবে, যেটা তুমি বন্ধুদের কাছে বলার সময় একটু নরম করে বলো।

1 সৎভাবে ১০টি প্রশ্নের উত্তর দাও
2 সাথে সাথে তোমার রেজাল্ট দেখো
3 যে বন্ধুর হয়তো দরকার, তার সাথে টেস্টটা শেয়ার করো

টক্সিক রিলেশনশিপ টেস্ট কী, আর কখন দেওয়া উচিত?

এটা তোমার এখনকার সম্পর্কের একটা সৎ ছবি: সঙ্গীর কাছে থাকলে কেমন লাগে, দ্বিমত করলে কী হয়, টাকাপয়সা কে সামলায়, আর তুমি আগের মতো নিজের মতো আছ কি না।

দেওয়ার সময় তখনই, যখন তোমার কাছের কেউ বলে "তুই আগের মতো নেই", বা তুমি নিজেই বন্ধুদের কাছে সঙ্গীর কিছু কাজ লুকাতে শুরু করেছ। যারা বিয়ের কথা ভাবছে, তারাও দেয়, কারণ এখনকার ছোট অভ্যাস পরে বড় হয়।

টক্সিক রিলেশনশিপ টেস্টের ছবি: একটি সতর্ক চিহ্ন, একটি ভাঙা হার্ট, মাথা ঘোরা একটি মুখ আর একটি শুকিয়ে যাওয়া ফুল

টক্সিক টেস্টের ফল কীভাবে ঠিক হয়?

প্রতিটি প্রশ্নে চারটি উত্তর, সবচেয়ে সুস্থ থেকে সবচেয়ে উদ্বেগের ক্রমে, ০ থেকে ৩ পয়েন্ট। যেমন তুমি দ্বিমত করলে সঙ্গী "শোনে আর মিটিয়ে নেয়" ০, "চিৎকার করে, হুমকি দেয় বা শাস্তি দেয়" ৩।

মোট ৩০-এর মধ্যে ৮ পর্যন্ত সুস্থ সম্পর্ক, ৯ থেকে ১৭ কিছু সতর্ক সংকেত, ১৮ বা তার বেশি টক্সিক আচরণ। এখানে সীমাগুলো অন্য টেস্টের চেয়ে নিচে রাখা, কারণ এই প্রশ্নগুলোতে কয়েকটা ৩ পয়েন্টের উত্তরই গুরুত্বপূর্ণ।

টক্সিক রিলেশনশিপ টেস্টে কী জানতে চাওয়া হয়?

প্রশ্নগুলো এমন সব দৈনন্দিন মুহূর্ত নিয়ে, যেগুলো আলাদা করে ছোট, কিন্তু একসাথে একটা ধরন তৈরি করে। কয়েকটি:

  • তোমার সঙ্গী কি তোমার ফোন বা মেসেজ চেক করে: কখনো না, মজা করে, প্রায়ই, নাকি সবসময় আর পাসওয়ার্ডও চায়?
  • কাজিনের বিয়ে বা বন্ধুদের ট্যুরে যেতে চাইলে তুমি কি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারো, নাকি শুধু সঙ্গী রাজি থাকলে?
  • কিছু ভুল হলে দোষ কার ঘাড়ে পড়ে: দুজনে মিলে দেখো, পালা করে, সাধারণত তোমার, নাকি সবসময় তোমার, তার ভুলেরও?
  • সঙ্গী কি তোমাকে নিয়ে ঠাট্টা করে, আর সেটা কি অন্যদের সামনেও, আর তাতে কি সত্যিই কষ্ট লাগে?
  • সম্পর্কের শুরুর তুলনায় তুমি কি এখনো নিজের মতো থাকতে পারো, নাকি আগের চেয়ে কম?

ফল "কিছু সতর্ক সংকেত" এলে কী করব?

প্রথমে দেখো কোন প্রশ্নে ২ বা ৩ পয়েন্টের উত্তর দিয়েছ; সাধারণত একটা-দুটো জায়গাতেই সমস্যা জমে, যেমন হিংসা বা দোষারোপ। সেই নির্দিষ্ট জিনিসটা নিয়ে শান্ত সময়ে সঙ্গীর সাথে কথা বলো, ঝগড়ার মাঝখানে নয়। এক মাস পর আবার টেস্ট দাও: পয়েন্ট নামলে কথা কাজে লেগেছে, না নামলে বা বাড়লে সেটাও একটা উত্তর। কোনো অবস্থাতেই ভয় লাগলে অপেক্ষা না করে বিশ্বাসের কারও সাথে কথা বলো।

আমাদের এখানে এই টেস্ট নিয়ে এত খোঁজ কেন?

কারণ আমাদের চারপাশে সম্পর্কের অনেক কিছু "ভালোবাসা" নামে চলে যায়: ফোন চেক করা, কোথায় আছ জানতে চাওয়া, কার সাথে কথা বলা যাবে ঠিক করে দেওয়া। বন্ধুরা হাসে, পরিবার বলে "মানিয়ে নাও", আর যার সম্পর্ক, সে একা একা গুগলে লক্ষণ খোঁজে।

তাই এটা সাধারণত একা দেওয়া হয়, রাতে, ফোনে, কাউকে না বলে। অনেকে ফলটা কাছের বান্ধবী বা ভাইকে দেখায়, আর সেখান থেকেই প্রথমবার খোলাখুলি কথা শুরু হয়। কিছু কাপল দুজনেই দিয়ে পয়েন্ট মেলায়; দুজনের ফল একই রকম হলে স্বস্তি, আলাদা হলে ভাবার জায়গা।

টক্সিক রিলেশনশিপ টেস্ট নিয়ে প্রশ্নোত্তর

টক্সিক সম্পর্কের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ কী?

টেস্টের প্রশ্নগুলোই তালিকাটা: ফোন চেক করা, বন্ধু-পরিবারের সাথে দেখা করতে বাধা, দ্বিমত করলে চুপ হয়ে যাওয়া বা চিৎকার, সব দোষ তোমার ঘাড়ে, অন্যদের সামনে ঠাট্টা, টাকা নিয়ন্ত্রণ, আর ভুল না করেও বারবার সরি বলা। একটা থাকলেই টক্সিক নয়, কয়েকটা একসাথে থাকলে ধরন।

টক্সিক রিলেশনশিপ টেস্টে "টক্সিক আচরণ" এলে কি সম্পর্ক ভেঙে দেওয়া উচিত?

টেস্ট সেই সিদ্ধান্ত নেয় না আর নিতে পারে না; ১০টি প্রশ্নে পুরো সম্পর্ক ধরা যায় না। ফলটা বলে, তোমার উত্তরে নিয়ন্ত্রণ, ভয় বা অসম্মান অনেকবার এসেছে, আর এটা তোমার একা সামলানোর বিষয় নয়। পরের ধাপ বিশ্বাসের কারও সাথে কথা বলা, প্রয়োজনে হেল্পলাইন।

আমার সঙ্গী কি জানতে পারবে আমি এই টেস্ট দিয়েছি?

না, যদি তুমি নিজে না বলো। কোনো অ্যাকাউন্ট নেই, উত্তর কোথাও পাঠানো হয় না, সব হিসাব তোমার ফোনের ব্রাউজারে। পেজ বন্ধ করলে কিছু থাকে না। ফোন কেউ চেক করে এমন হলে ব্রাউজারের হিস্ট্রি মুছে দিতে পারো।

সঙ্গী হিংসা করে বলেই কি সম্পর্ক টক্সিক?

না। একটু হিংসা আর সেটা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা টেস্টে মাত্র ১ পয়েন্ট। ৩ পয়েন্ট তখন, যখন তোমাকে সবসময় প্রমাণ দিতে হয় তুমি কোথায় ছিলে। পার্থক্যটা অনুভূতিতে নয়, সেই অনুভূতি তোমাকে দিয়ে কী করায় তাতে।

সম্পর্কটা আমার দিক থেকেও টক্সিক হতে পারে?

পারে। প্রশ্নগুলো সঙ্গীর আচরণ নিয়ে হলেও উল্টো দিক থেকেও দেওয়া যায়: সঙ্গীর জায়গায় নিজেকে বসিয়ে ভাবো, তুমি তার ফোন চেক করো কি না, দ্বিমতে চুপ হয়ে যাও কি না। অনেকে দুজনের হয়ে দুবার দিয়ে ফল মেলায়; সেটা সবচেয়ে সৎ ব্যবহার।

বিয়ে হয়ে গেলে বা পরিবার জড়িত থাকলেও টেস্ট প্রযোজ্য?

হ্যাঁ, প্রশ্নগুলো প্রেম বা বিয়ে আলাদা করে না। বরং বিয়ের পরে টাকাপয়সা, পরিবারের সাথে দেখা আর দোষারোপের প্রশ্নগুলো আরও সরাসরি প্রযোজ্য। "মানিয়ে নাও" শোনা মানুষদের জন্য টেস্টটা অন্তত একটা স্পষ্ট ছবি, যেটা দিয়ে কথা শুরু করা যায়।

ফল সুস্থ এলেও কি খারাপ দিন থাকা স্বাভাবিক?

একদমই স্বাভাবিক; ফলের বর্ণনাতেই লেখা, প্রতিটি জুটিরই খারাপ দিন যায়। সুস্থ মানে ঝগড়া হয় না তা নয়, ঝগড়ার পরে কথা হয়, দোষ ভাগ হয় আর তুমি নিজের মতো থাকো। সেটা থাকলে একটা খারাপ সপ্তাহে কিছু বদলায় না।

আমাদের অন্য টেস্টগুলোও দেখো

সব কুইজ →